উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটার খুললে প্রথমেই পর্দায় দেখা যায় ডেস্কটপ। ডেস্কটপে থাকা আইকনগুলো নিজের পছন্দমতো সাজাতে পারেন সহজেই। ডেস্কটপে মাউসের ডান ক্লিক করে View-এ যান। অনেক অপশন চলে আসবে। প্রথমেই থাকবে আইকনের আকার ছোট বড় করার অপশন। ডেস্কটপে বেশি আইকন থাকলে Small icons অপশনে ক্লিক করলে ছোট পরিসরে অনেক আইকন এঁটে যাবে। পরের অংশে আছে Auto arrange icons. এতে টিক দেওয়া থাকলে সেটা উঠিয়ে দিন। কারণ, অটো অ্যারেঞ্জ আইকনস নির্বাচিত থাকলে নিজের মতো করে আইকনগুলো সাজাতে পারবেন না। আর আইকন সাজানোর ভারটা যদি উইন্ডোজের ওপর ছেড়ে দিতে চান, তাহলে এতে অবশ্য টিক দিয়ে রাখতে পারেন। তারপর Align icons to grid অপশন থেকেও টিক উঠিয়ে দিতে হবে। ডেস্কটপে যদি কোনো আইকনই দেখতে না চান, তাহলে Show desktop icons অপশন থেকে টিক উঠিয়ে তা করা যাবে। একইভাবে পুনরায় ডেস্কটপের ভিউতে গিয়ে টিক দিলেই তা আবার চলে আসবে। ডেস্কটপে বেশি আইকন রাখার বদলে সবচেয়ে ভালো হয় সেগুলো স্টার্ট মেনু বা টাস্কবারে রাখলে। এখান থেকে অ্যাপ্লিকেশন চালু করা যায় মাত্র এক ক্লিকেই। যে প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশনটি টাস্কবারে অথবা স্টার্ট মেনুতে রাখতে চান, সেটির ওপর ডান ক্লিক করে Pin to Task bar অথবা Pin to Start Menu অপশনটি বাছাই করুন। আবার রাখতে না চাইলে Unpin করে দিলেই চলবে।
ফোন করার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল নম্বর ফোন রিসিভকারী ব্যক্তি পেয়ে যান। এ ক্ষেত্রে মেয়েরা অনেক সময় সমস্যায় পড়ে যান। অপরিচিত ব্যক্তিরা শুধু শুধু ডিস্ট্রাব করতে থাকে। তাই এখনই জেনে নিন, কিভাবে মোবাইল নম্বর গোপন রেখে কল করা যায় তার নিয়মাবলী।
মূলত এ সমস্য থেকে আপনি নিশ্চিত মুক্তি পেতে পারেন কিছু কার্যকরি অ্যাপস ব্যবহার করে। নানা ধরনের অ্যাপ অবশ্য আগে থেকেই রয়েছে যেগুলো
ব্যবহার করা যায় কিন্ত তারজন্য আবার একটি ভুয়া নম্বর ব্যবহার করতে হয়। এজন্য অবশ্য বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এসব অ্যাপের সাহায্যে কাওকে ফোন করার সময় বদলে ফেলা যায় নিজের মোবাইল নম্বর। এক্ষেত্রে অ্যাপটি ব্যবহারকারীর আসল নম্বর লুকিয়ে রাখে এবং ব্যবহারকারীর দেওয়া অন্য একটি ভুয়া নম্বর প্রদর্শন করে থাকে।
অনেকেই পরিচয় বদলের এই জাতীয় অ্যাপ হিসেবে ব্যবহার করছেন যেমন Voxox, Lifehacker, Spoofcard, Tracebust, CallerIDFaker ইত্যাদি। এসব অ্যাপের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে Tracebust অ্যাপটি।
প্রাথমিকভাবে এর ট্রায়াল ভারসন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু পরবর্তীতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্বের এইসব সুযোগগুলো ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে অনেকেই। তবে পাওয়ানাদারের কাছ থেকে পাওয়া উদ্ধারে এমন অ্যাপ আপনি ব্যবহার করতেই পারেন।
কম্পিউটার ইউজারের মধ্যে আমরা অনেকেই জানি উইন্ডোজ সেট-আপ করলে শুধু সিস্টেম ড্রাইভ অর্থাৎ যে ড্রাইভে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা আছে, সেটি ফরম্যাট হয়। অন্য ড্রাইভগুলো অপরিবর্তিত থাকে। ফলে সিস্টেম ড্রাইভে যদি ভাইরাস থাকে, তা ডিলিট হয়ে যায়।
কিন্তু অন্য ড্রাইভের ভাইরাসগুলো আগের মতোই পিসিতে ঘরবাড়ি পেতে বসে থাকে। তার ওপর অনেক ভাইরাস এতই মারাত্মক হয় যে, তার জন্য এন্টিভাইরাসই ইন্সটল করা যায় না, তাহলে পিসির এসব ভাইরাস পিসিতেই থাকবে।
এখন নিশ্চয় আপনার মনে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে ‘পিসি ফরম্যাট করা ছাড়া তবে কোনও উপায় নেই?’ অবশ্যই আছে। সাধারণত যে সকল ভাইরাস আপনার পিসিতে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করতে দেয় না বা আপনার এন্টিভাইরাস দিয়েও যায়না তার কারণ, তারা আপনার পিসিতে অ্যাক্টিভ আছে বলেই তারা আপনাকে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করা থেকে বিরত রাখতে পারে আর আপনার এন্টিভাইরাস এর ক্ষমতাকেও হারাতে পারে। সুতরাং এমন কিছু করতে হবে যেন, ভাইরাসগুলো অ্যাক্টিভ না থাকে।
পিসিতে ভাইরাস তখনই অ্যাক্টিভ হয়, যখন আপনি আপনার পিসির ড্রাইভগুলো ওপেন করেন। ধরুন, আপনার পিসিতে সিস্টেম ড্রাইভ ছাড়া অন্য ড্রাইভে ভাইরাস আছে। এখন আপনি যদি ওইন্ডোজ সেটাপ দিয়ে আবার আপনার ড্রাইভগুলো ওপেন করেন, তাহলে ভাইরাসগুলো আবার অ্যাক্টিভ হবে।
আসুন দেখে নেওয়া যাক সহজ উপায়ে কীভাবে ভাইরাস দূর করবেন
৩. ওইন্ডোজ সেটাপের পরে প্রথম যখন কম্পিউটারটি অন করবেন তখন, ‘MY Computer’ এ বা এর কোনো ড্রাইভেও যাবেন না। ফলে আপনার পিসির ভাইরাসগুলো অ্যাক্টিভ হবে না।
৪. এখন এন্টিভাইরাসের সিডি অথবা পেনড্রাইভ থেকে এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যারটি ইন্সটল করুন। পেনড্রাইভ কম্পিউটারে প্রবেশ করানোর সময় shift প্রেস করে রাখুন যেন তা নিজ থেকেই ওপেন না হয়।
৫. এখন ‘MY Computer’ থেকে প্রত্যেকটি ড্রাইভ থেকে স্ক্যান করলেই ভাইরাসগুলো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, স্ক্যান করার আগে যেন কোন ড্রাইভ ওপেন না হয়। এতে অন্যড্রাইভের ভাইরাসগুলো সক্রিয় হয়ে যেতে পারে।
দ্রুত টাইপ করা কিংবা কিবোর্ড টাইপিং দ্রুত করার জন্য কিছু অভিনব কৌশল রয়েছে, যা আয়ত্ব করলে সহজেই আপনি আপনার টাইপিং গতি বাড়াতে সক্ষম হবেন।
দ্রুত টাইপ করার কৌশল
তবে দ্রুত টাইপ করতে হলে আপনাকে নিয়মিত টাইপ করতে হবে, অর্থাৎ টাইপিং অনুশীলনের বিকল্প নেই। দ্রুত টাইপ করার জন্য বিভিন্ন সফ্টওয়্যার রয়েছে, যা আপনাকে প্রতিদিন ব্যবহৃত শব্দগুলো টাইপ করার জন্য দিবে।
এতে করে প্রতিদিনের ব্যবহৃত শব্দ এর মাধ্যমে আপনি সহজে টাইপ করতে পারবেন এবং টাইপিং স্পিড দ্রুত হবে।
দ্রুত টাইপ করার গোপন রহস্য:
দ্রুত টাইপ করতে পারাটা এখন একটি দক্ষতা। দ্রুত টাইপ করতে না পারায় অনেক সময়ের অপচয় হয়। সংক্ষেপে যদি দ্রুত টাইপ করার ‘গোপন রহস্য’ প্রকাশ করতে বলা হয়, তবে মনে রাখতে হবে যে এর জন্য আসলে তেমন কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। তবে কিছু পথ আছে, যার মাধ্যমে টাইপ করার দক্ষতাকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বাড়িয়ে নেওয়া যায়।
এছাড়াও দ্রুত টাইপ করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি আরাম এবং নিরিবিলি জায়গা বেছে নিতে হবে। এতে করে আপনি মনোযোগ দিয়ে এবং অনেকটা এডভেঞ্চার এর মত টাইপ এ মনোযোগ দিতে পারবেন।
দ্রুত টাইপ করার জন্য ঠিক হয়ে বসা জরুরি। সোজা হয়ে বসে কবজি যাতে কিবোর্ড বরাবর থাকে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে আঙুল কিগুলো ঠিকমতো চালাতে পারবেন। বেশি ঝুঁকে টাইপ না করাই ভালো। আরামদায়ক উচ্চতায় বসে টাইপ করলে দ্রুত টাইপ করা যাবে।
কিবোর্ড ধরার বা কিবোর্ডে হাত বসানোর নিয়ম:
কিবোর্ডের ওপর ঠিকমতো হাত না রাখার ফলে দ্রুত টাইপ করা যায় না। ভুলভাবে কিবোর্ডের ওপর হাত রাখার ভুলটিই বেশি দেখা যায়। তাই কিবোর্ডে আঙুল রাখার নিয়মটি মনে রাখতে পারেন। বাঁ হাতের তর্জনীতে রাখুন ‘F’ কি, মধ্যমাতে ‘D’, অনামিকাতে ‘S’, কড়ে আঙুলে ‘A’। ডান হাতের তর্জনী রাখুন ‘J’, মধ্যমাতে ‘K’, অনামিকাতে ‘L’ ও কড়ে আঙুল রাখুন ‘;’ কিতে। বাঁ ও ডান হাতের বৃদ্ধা আঙুল রাখুন Space Bar এ।
তর্জনীকে টাইপিং এর ভাষায় মুক্ত আঙুল বলা হয়। এটি সামনের অক্ষরটিও টাইপ করতে ব্যবহৃত হয়। তাই বাঁ হাতের তর্জনী G তেও রাখুন। এবং ডানহাতের তর্জনী H তে তাহলে দাঁড়ায় বাম হাতে: ASDFG ডান হাতে: ;LKJH
কিবোর্ড ধরার নিয়ম
আঙুল ঠিকমতো রাখার পর বিভিন্ন শব্দ টাইপ করতে থাকুন। অনুশীলন চালিয়ে যান। শুরুতে যে কিগুলোতে আঙুল রেখেছেন, তা চেপে টাইপ শুরু করুন। ‘ASDFG’ এরপর স্পেস দিয়ে ‘:LKJH ’ এরপর বড় হাতের অক্ষরে এ অক্ষরগুলো টাইপ করার চেষ্টা করুন। এরপর নিচের সারির কিগুলোতে আঙুল রেখে এই কিগুলো টাইপ করুন। একই সঙ্গে ওপরের সারিতে আঙুল রেখে ওই কিগুলো টাইপ করার চেষ্টা করুন। এবার কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েই কিগুলো চেপে টাইপ করার চেষ্টা করতে পারেন।
টাচ-টাইপিং
আপনি যখন কিবোর্ড না দেখেই টাইপ করা শুরু করবেন, তখন সেটা হবে টাচ-টাইপিং। টাচ-টাইপিং এর মাধ্যমে দ্রুত টাইপ করা যায়। আপনি যত বেশি প্রাকটিজ করবেন, তত টাচ-টাইপিং এ দক্ষতা অর্জন করবেন।
শুরুতে টাচ টাইপিংয়ের দক্ষতা খুব কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু একবার দক্ষ হয়ে গেলে টাচপ্যাড ব্যবহার করে সবচেয়ে দ্রুত টাইপ করা যায়। টাচ টাইপ শিখতে খুব ধীরে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে অনুশীলন শুরু করুন। ধীরে ধীরে আপনার টাইপের গতি বাড়ান। শুরুতে কঠিন মনে হলেও লেগে থাকুন। ধীরে ধীরে দ্রুত টাইপ শিখে যাবেন।
টাচ টাইপিং এর নিয়ম
দ্রুত টাইপ করার কৌশল এর মধ্যে প্রধান হল টাইপিং অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া। এজন্য অনেক সফ্টওয়্যারও হেল্পফুল হতে পারে যেমন: টাইপিং মাস্টার কিংবা অনলাইনে অনেক লাইভ সফ্টওয়্যারও রয়েছে।
(আমাদের পোষ্টটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, ও শেয়ার করতে ভুলবেন না।)
কি-বোর্ডের Windows Key+R চেপে বা স্টার্ট মেনু থেকে রান চালু করে msconfig লিখুন এবং এন্টার করুন। সিস্টেম কনফিগারেশন উইন্ডো এলে স্টার্টআপ ট্যাবে ক্লিক করুন। তালিকায় থাকা অ্যান্টিভাইরাস ছাড়া অন্য প্রোগ্রামগুলো থেকে টিক উঠিয়ে দিন। যে প্রোগ্রামটি খুব বেশি ব্যবহার করেন, সেটিতে টিক রেখে দিতে পারেন। এ জন্য তালিকাটা কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ভালোভাবে দেখুন কোন সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় না থাকলেই নয়। তারপর ওকে চেপে কম্পিউটার বন্ধ করে পুনরায় চালু করুন। দেখবেন আগের চেয়ে কম্পিউটার কিছুটা দ্রত চালু হচ্ছে।
উইন্ডোজ ৮ ও উইন্ডোজ ১০
উইন্ডোজের নতুন এ সংস্করণে টাস্ক ম্যানেজার থেকে আরও সহজে স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বাছাইয়ের কাজটা করা যায়। টাস্কবারে ডান ক্লিক করে অথবা কিবোর্ডে Ctrl + Alt + Delete একযোগে চেপে টাস্ক ম্যানেজার চালু করুন। স্টার্টআপ ট্যাবে ক্লিক করলে কম্পিউটার চালু হওয়ার সময়কার প্রোগ্রামগুলোর তালিকা দেখা যাবে। এখানে স্টার্টআপ ইমপ্যাক্ট নামে কলামটি খেয়াল করে দেখতে হবে। যেসব প্রোগ্রামের পাশে High লেখা দেখা যাচ্ছে সেগুলো কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় গতি ধীর করে ফেলে। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি রেখে বাকিগুলোতে মাউসের ডান ক্লিক করে Disable করে দিন। নিষ্ক্রিয় হওয়া এসব প্রোগ্রাম পরে আবার চালু করা যাবে।
পশ্চিমবঙ্গর রাজ্যের উত্তর দিরাজপুরের দিনাজপুর জেলার এক হত দরিদ্র ভিক্ষুকের মেয়ে নন্দিনী এখন জার্মানির প্রভাবশালী সংসদ সদস্য (এমপি)। আবারও প্রমাণিত হলো- দারিদ্রতা কখনও চলার পথের বাঁধা হতে পারে না।
হ্যাঁ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গের উত্তর দিরাজপুরের এক বাঙালি মেয়ের সাফল্যগাঁথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বাবা ভিক্ষুক হওয়া সত্ত্বেও নিজের ইস্পাত কঠিন ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ভারতের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের মেয়ে হলেও তার পূর্বপূরুষ ছিলেন বাংলাদেশের দিনাজপুরের বাসিন্দা।
তিনি ভিক্ষুক বাবার পরিবারে দারিদ্র্যতাকে নিত্য সঙ্গী করে বেড়ে উঠেছেন রায়গঞ্জ আর দূর্গাপুরে। তার বাবা ফকির ছিলেন স্থানীয় একটি মন্দিরের দায়িত্বে। প্রতিদিন মন্দিরের আশেপাশের বাড়িগুলো থেকে চাউল তুলতেন মন্দিরের জন্য, সে চাউলের একটি অংশ মন্দিরে দিতেন আর একটি অংশ তিনি নিজে রাখতেন। মাঝেমধ্যে নন্দিনীও তার বাবার সাথে গ্রামে গ্রামে ঘুরতেন চাউল সংগ্রহ করার জন্য। তার বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি ভর্তি হন দুর্গাপুর স্কুলে।
ভালো ফলাফল করে নন্দিনী আসেন
রায়গঞ্জ কলেজে। তার বয়স যখন ১৮ বছর তখন হরিনাথ ফকির মারা যান। যদিও নন্দিনীর আর কোন ভাই বোন ছিলেন না তবুও তার মাকে নিয়ে খুব বেকায়দায় পড়েন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিকূলতার মাঝে নন্দিনী কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে ভর্তি হন।
সেখানে পড়াকালীন তিনি একটি ছোট্ট পত্রিকায় খন্ডকালীন চাকরি পান মডারেটর হিসেবে। নন্দিনী বেশ সফলতার সঙ্গে তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আবারো বাধ সাধে বিধাতা। নন্দিনীর একমাত্র ভরসা তার মা পৃথিবী থেকে স্বর্গে চলে যান। মা হারানোর শোকে তখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এরপর কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাইকে অবাক করে অভাবনীয় ফলাফল করেন নন্দিনী। ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ভাষা ও সংস্কৃতিতে উচ্চতর গবেষণার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান সুদূর জার্মানিতে। সেখানে সারলান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন বিদেশী শিক্ষার্থীরা তাদের ফান্ড বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করেন নন্দিনী সে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন। সবার দৃষ্টি পড়ে নন্দিনীর উপর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নন্দিনী জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে।
সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ জার্মানি দলের সাথে নন্দিনীর সখ্যতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। একসময় এ পার্টিতে নন্দিনীর অবস্থান হয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে (এশীয় অঞ্চল)।
একই সাথে ওই পার্টি থেকে প্রকাশিত পত্রিকার মূল সম্পাদনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন অদ্যবধি। গতবছরের নভেম্বরে সারলান্ডের আনাট্রপলি অঞ্চলের উপনির্বাচনে নন্দিনী তার পার্টি থেকে নমিনেশন পান এবং সিডিএফের প্রার্থী জন্টসকে ৩০২ ভোটের ব্যাবধানে হারান।
প্রায় ১০ বছর হলো কোলকাতা থেকে নন্দিনী জার্মানিতে রয়েছেন। তবে এরমধ্যে দেশে এসেছেন মাত্র ২ বার। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জার্মানিতে অবস্থানরত প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য। নন্দিনী বিয়ে করেছেন সারলান্ড অঞ্চলের স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী বেঞ্জামিনকে।
নন্দিনী-বেঞ্জামিন দম্পতির বর্তমানে ২ ছেলে রয়েছে। আসছে মার্চে কোলকাতা আসবেন দারিদ্র্যকে জয় করা এ কৃতী নারী। সময় পেলে পূর্ব পুরুষের ভিটা বাংলাদেশেও একবার ঢুঁ মারবেন। নিবেন বুক ভরে সজীব নিঃশ্বাস।